আব্বাস উদ্দিন , শেরপুর শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রতিনিধি :
কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না মাদক পাচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর থাকলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। দিন দিন মাদকের প্রসার বেড়েই চলছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রনে হিমসিম খাচ্ছে।
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকা ঝিনাইগাতী উপজেলা ও পার্শবর্তী ২টি উপজেলা শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী মোট ৩ টি উপজেলায় প্রায় ৬০ কি.মি. দীর্ঘ পাহাড়ি দুর্গম এলাকা ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা। এই দুর্গম এলাকা দিয়ে নিরাপদে মাদক ব্যাবসায়ীরা মাদক আমদানি করে। এই সমস্ত আমদানি কৃত মাদক পাচার ও কারবার নিয়ন্ত্রণে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে এ সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে সীমান্তের বিভিন্ন মাদক কারবারির যোগাযোগ রয়েছে। ভারত থেকে বিভিন্ন পথে মাদক এনে প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশা, দূরপাল্লার বাস, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে বিক্রি করে।আমদানি কৃত মাদকদ্রব্য গুলো হলো - ইয়াবা - আইস - এলএসডি- গাঁজা- ফেনসিডিল- কোরেক্স- বিদেশি মদ - দেশি মদ- হেরোইন (ব্রাউন সুগার)- মরফিন-কোকেন ইত্যাদি। এই সমস্ত মাদকদ্রব্যের কারনে যুব সমাজ দিন দিন মাদকের দিকে ঝুকছে। একই সাথে স্কুল কলেজের পড়ুয়া ছাত্র -ছাত্রি এই মাদকদ্রব্যের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে যার ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের কারনে সমাজে অপরাধ যেমনঃচুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বাড়ছে এর সাথে অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে এবং পরিবারে অশান্তি মূলক বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হয়। এবং কি আইন শৃঙ্খলা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির পাশা পাশি সামাজিক ভাবে মাদক রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরি প্রয়োজন। সূত্র মতে জানা যায় সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবি ও পুলিশ বিভিন্ন সময়ে মাদক জব্দ ও মাদক পাঁচারকারিদের আটক ও করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে মামলাও। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এসব অভিযানে বাহক বা ছোট কারবারিরা ধরা পড়লেও মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে সীমান্তে বিজিবির বিভিন্ন অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অনেক চোরাকারবারিকে আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, এ কারণে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
সীমান্তবাসীদের দাবি, মাদক পাচার বন্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, পাচারের পথ, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী এবং এর পেছনে থাকা মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও গত বৃহস্পতিবার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধাকুড়া এলাকা থেকে বিভিন্ন যাতের ২৭৩ বোতল মাদক জব্দ করেছে। তবে মাদকদ্রব্য জব্দের সময় মাদক কারবারিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বিজিবি।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৮:০১ ৩৬ বার পঠিত |