![]()
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবতা হলো, এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুবিধা ও কার্যক্রম অর্জন করতে পারেনি। নামের সঙ্গে “আন্তর্জাতিক” শব্দটি থাকলেও দীর্ঘ বছর ধরে বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্য কোনো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়মিত কার্যক্রম এখানে গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
অবশেষে! দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সিলেটবাসীর। নামে আন্তর্জাতিক হলেও যেখানে দীর্ঘদিন কোনো নিয়মিত বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ছিল না, সেই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হচ্ছে।
ওমান প্রবাসী ও সিলেটবাসীর দুঃখ ঘোচাতে স্বল্প খরচের এয়ারলাইন SalamAir আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মাস্কাট-সিলেট রুটে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। গত ১ জুলাই এয়ারলাইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই রুট ঘোষণা করেছে।
এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিলেট হবে বাংলাদেশে তাদের তৃতীয় গন্তব্য। মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ফ্লাইট নম্বর OV421, যাত্রার আনুমানিক সময় ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।
ওমানে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক সিলেটি প্রবাসীর জন্য এই রুটটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এতদিন ঢাকা হয়ে অতিরিক্ত খরচ ও সময় নিয়ে সিলেটে যেতে হতো, নতুন এই সরাসরি ফ্লাইটে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় কনভেনর কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো- কনভেনর এম মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান, ট্রেজারার আসরাফ মিয়া, সাউথ ইষ্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো- কনভেনর জামাল হোসেন, সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম, ও ট্রেজারার হেলেন ইসলাম সহ অন্যান্য রিজিওনাল ও শাখা নেতৃবৃন্দ এই উদ্যোগ সিলেট বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্দ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর সিলেটে পর্যটক ও প্রবাসী যাত্রী পরিবহনে এই রুট নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে এটিই শেষ লক্ষ্য নয় বলে উল্লেখ করে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আর ও বলেন, সিলেট বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এ বিমানবন্দর উন্মুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সুবিধা, কার্গো সেবা, যাত্রীসুবিধা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো সিলেটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী হয়।
প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রতিযোগিতার অভাবে বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি থাকে এবং যাত্রীদের বিকল্পের সুযোগ সীমিত থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া আরও সহনীয় পর্যায়ে আসবে।![]()
সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা শুধু একটি আঞ্চলিক দাবি নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। সিলেট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল। উন্নত আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে পর্যটন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিমান চলাচল, পর্যটন, হসপিটালিটি ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত হবে। এতে সিলেট একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবে।
প্রবাসী নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকার এর প্রধানমন্ত্রী , বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়ে বলেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব কার্যক্রমেও একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এতে সিলেটবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশি, দেশের অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সকলেই উপকৃত হবে। এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের সিলেট বিভাগ, সিলেট বিভাগের উন্নয়নে দেশে বিদেশে বসবাসকারী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।![]()
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৬:৪০ ১৫০ বার পঠিত |