আপনার এলাকার খবর
প্রথম পাতা » জাতীয় » মৌলভীবাজারে জমি বিরোধে ভাইকে হত্যার অভিযোগ, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৫

মৌলভীবাজারে জমি বিরোধে ভাইকে হত্যার অভিযোগ, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৫


বিএনবি নিউজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬


মৌলভীবাজারে জমি বিরোধে ভাইকে হত্যার অভিযোগ, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৫মৌলভীবাজারে আলোচিত ও ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাইকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।

পুলিশ জানায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ বিরোধের জের ধরে আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকজনকে নিয়োগ দেন। ২৮ জুন আদালতে একটি মামলায় আব্দুল মতিন সাক্ষ্য দিতে যাবেন—এ তথ্য আগে থেকেই জানতেন অভিযুক্তরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মতিন আদালতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথিমধ্যে তাকে অনুসরণ করে একটি দল। পরে নির্জন স্থানে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ সদর উপজেলার শমসেরগঞ্জ এলাকার সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা সড়কে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বাড়ির পূর্ব পাশে হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

খবর পেয়ে ২৮ জুন রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ৩০ জুন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

নিহত আব্দুল মতিন (৫৮) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আপারকাগাবালা ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মৃত হাজী আব্দুল মন্নানের ছেলে।

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৯:৩৬   ৩০ বার পঠিত  |




জাতীয় থেকে আরও...


● মাথায় আঘাতে অপ্রতিমের মৃত্যু হতে পারে : পুলিশ ও চিকিৎসক
● মাদকের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানালেন ওসি “হয় আমি থাকবো নয় মাদক থাকবে”
● ঢাবিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, জানুয়ারিতে সমাবর্তনের আমন্ত্রণ
● ডারউইনে টাইগারদের ইতিহাস
● র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি



আর্কাইভ