আপনার এলাকার খবর
প্রথম পাতা » খুলনা » সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে অপহৃত ১৮ জেলে, এখনও নিখোঁজ দুইজন

সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে অপহৃত ১৮ জেলে, এখনও নিখোঁজ দুইজন


বিএনবি নিউজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে অপহৃত ১৮ জেলে, এখনও নিখোঁজ দুইজন

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলে ও মৌয়ালরা সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও মুক্তি মেলেনি দুই জেলের। ফলে নিখোঁজ দুইজনকে ঘিরে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাথাভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ির খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে জলদস্যুরা মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে।

অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর একে একে জেলে ও মৌয়ালদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া বনজীবী মুরশিদ আলম ৭০ হাজার টাকা, করিম শেখ এক লাখ ২০ হাজার টাকা, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জলদস্যুদের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে জানা গেছে।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ড ও বনবিভাগের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৮:৩৯   ৫৫ বার পঠিত  |




খুলনা থেকে আরও...


● সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে অপহৃত ১৮ জেলে, এখনও নিখোঁজ দুইজন
● ভারি বৃষ্টিতে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০
● উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
● ‘জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না’



আর্কাইভ