![]()
নেট দুনিয়ায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন তেলাপোকা ও পরজীবী পার্টির দখলে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) উত্থানের পর মঞ্চে এসেছে বিরোধী দল ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ (এনপিএফ)।বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) ও ‘পরজীবী’ (প্যারাসাইট)-এর সঙ্গে তুলনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে জেনজিরা এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করেছে।
গত ১৬ মে অভিজিৎ দিপক নামের এক যুবক সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে দাবি করে। মাত্র কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর অনুসারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।এটি ব্যঙ্গাত্মক গ্রুপ হলেও এদের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু বাস্তব রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে; যেমন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভার আসন না দেওয়া, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোট বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, মন্ত্রিসভায় নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ এবং দলত্যাগী বিধায়কদের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা। এমনকি এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তেলাপোকার পোশাক পরে যমুনা নদী পরিষ্কারের একটি প্রতীকী কর্মসূচিও চালানো হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও অনলাইনে এই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন।
সিজেপির জনপ্রিয়তার ফলেই এনপিএফের জন্ম হয়।
সিজেপি যেখানে ‘অলস ও বেকার’দের প্রতিনিধিত্ব করছে, সেখানে এনপিএফ খুঁজছে প্রতিবাদীদের, যাঁরা সমাজব্যবস্থার চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করতে পারবে। দাবি, এনপিএফ গুরুতর রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভাষাকেই অনুকরণ করেছে। জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলনের আদলে গড়া এই ফ্রন্টটি অতিরঞ্জিত বিপ্লবী ভাষা, ব্যঙ্গ এবং বিদ্রুপের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে তৈরি হয়েছে।
নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণনা করে এনপিএফ বলেছে, ‘সিজেপির বিরোধী দল হিসেবে জন্ম নেওয়া এনপিএফ হলো এমন একদল নাগরিকের আন্দোলন, যাঁরা শাসনব্যবস্থাকে নাটক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। আমরা অপরাধমুক্ত সংসদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
শিক্ষিত প্রতিনিধিদের ব্যাপারেও আমরা সত্যিকারের চিন্তা-ভাবনা করছি।’
এই দুটি দলের মধ্যে পার্থক্য মূলত আদর্শগত। সিজেপি নিজেদের নিম্নবর্গ হিসেবে তুলে ধরেছে, যারা অবিরাম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সত্ত্বেও মরতে অস্বীকার করে—ঠিক যেমন আরশোলা করে। অন্যদিকে এনপিএফ ব্যঙ্গাত্মকভাবে সমাজব্যবস্থার দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। সমাজে ‘আসল পরজীবী’ কারা? সে প্রশ্নও তুলেছে দলটি।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত কোনো রাজনৈতিক দল না হলেও এই দুই সংগঠন ভারতের ডিজিটাল রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৮:৪২ ৫৬ বার পঠিত |