![]()
ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় শরিয়া সার্টিফিকেশনকে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যাতে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার মান উন্নত করা যায়। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী দান্তে সাকসোনো হারবুয়োনো এই তথ্য জানান।
সম্প্রতি দেশটির তাঙ্গেরান, বানতেনে আয়োজিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্বাস্থ্যসেবা সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে প্রদত্ত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সার্টিফিকেশন অন্তর্ভুক্তিমূলক, একচেটিয়া নয়। এটি শুধু ইসলামি হাসপাতালের জন্য নয়; বরং সরকারি, বেসরকারি ও সাধারণ সব হাসপাতালের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সব হাসপাতাল ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত সেবা প্রদান করতে পারবে। স্বাস্থ্য খাতে শরিয়া সার্টিফিকেশন প্রদান করবে ইন্দোনেশিয়ান উলামা কাউন্সিলের ন্যাশনাল শরিয়া কাউন্সিল; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ২৪ হাজার হালাল সার্টিফায়েড ওষুধপণ্য রয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়বে, যা জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। হাসপাতালের জন্য শরিয়া সার্টিফিকেশন মূলত স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের একটি উদ্যোগ, যেখানে চিকিৎসা মানদণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমন্বয় করা হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসা মানদণ্ড সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করবে, তবে তার সঙ্গে শরিয়া মূল্যবোধ যুক্ত হবে, যার মাধ্যমে চিকিৎসা ও আধ্যাত্মিক দিক একত্রে সমন্বিত একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ান ইসলামিক হেলথকেয়ার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাশহুদি জানান, এরই মধ্যে দেশটিতে ৪০টি হাসপাতাল শরিয়া সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যার মধ্যে চারটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৭৭টি হাসপাতাল বর্তমানে এই সার্টিফিকেশন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সারাদেশে প্রায় তিন হাজার ২০০ হাসপাতাল রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০০টি ইসলামি মূলনীতির আলোকে পরিচালিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সহজতর সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং জনগণের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ায় শরিয়াভিত্তিক হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়বে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৭:৫০ ৬৫ বার পঠিত |